জীবনিক শেষ স্বাদ - হৃদয় প্রধান

 


জীবনিক শেষ স্বাদ 
লেখাঃ হৃদয় প্রধান


দিন দিন জীবন তার গতি পথ বদলাচ্ছে। ঠিক যেন উপনদীর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তার স্রোত ধারার পরিধি বেড়ে ওঠার মত। তেমনি প্রতিদিন আমি হচ্ছি প্রাক্তন, বাড়ছে দায়িত্ব। আর একজন ম্যাচিউর বা পরিনত পুরুষ তার দায়িত্বে বিষয়ে অবগত ও সচেষ্ট থাকে সর্বদা। তবে যখন তার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক বা আর্থিক অপারগতা বাঁধা হয়, তখন সমস্ত কিছুই যেন বার বার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তার অপারগতা-কে। বার বার শত শত অভিযোগ আর অপারগতার ভার যেন ধুকরে খায় নিজের নিজ থেকে। যার থেকে উৎপত্তি হয় নিজের নিজেকে অবমূল্যায়ন করা। এর থেকেই জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ ধূসর বর্ণের।

এই জীবন ধারায় আজ আমি ক্লান্ত, বিষণ বিষণ ভাবে। শারীরিক বা মানসিক নয়, জীবনিক স্বাদে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন তৃষ্ণার্ত, মৃ*ত্যুর স্বাদ উপভোগ করার জন্য যেন উদ্বর্ত। নিজের পা-টাও যেন চাইছে না, আরো এক মুহুর্তের জন্যও শরীরের ভার বহন করতে। নিঃস্বাদ হয়ে গেছে জীবনের সমস্ত সুখ আর আচ্ছাদনে পড়েছে সমস্ত দুঃখ। যেন আলিঙ্গন করতে চাইছে মহাশূন্যকে আর নিঃশেষ হয়ে যেতে চাইছে নিভে যাওয়া প্রদীপের ধোয়ার মত, উধাও হতে চাই প্রচন্ড তাপে বাষ্পীয় হয়ে উধাও হয়ে যাওয়া পানির মত।

এমন ভাবে হারিয়ে যেতে চাই যেন কোথাও না থাকি বিন্দু মাত্র। যেন আমার কোনো চিহ্ন মাত্রও না থাকে কোথাও কারো কাছে, কোনো স্থানে। এই অবস্থাই কাম্য, যার তৃষ্ণায় আমি তৃষ্ণার্ত। যার আশায় হয়েছি হিংসার্ত। তাদের প্রতি যার আচ্ছাদন করেছে মৃ*ত্যুর স্বাদ, হয়েছে পরবাসিনী। কারণ তারাই পেয়েছে স্বার্থকতা, যারা আচ্ছাদন করেছে সময়ের প্রয়োজনীয় শেষ স্বাদ। তারা পৃথিবীর সমস্ত ভার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, যা তার বহন করা অসম্ভব হয়েছে। আর এই মুহুর্তে সবচেয়ে ভালো আঁধারের স্বাদ গ্রহণ করা, চোখ আঁধারে ডুবাতে পারা। তাই আমার কবি মনের বিষণ বিষণ ভাবে ইচ্ছা জেগেছে___

ঘন আলোতে মেঘ জমুক, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ুক;

বজ্রপাতে আলো আসুক, এর পরে আঁধার নামুক।

কিছু আঁধার দিনেও হোক, কিছু সময় একার হোক;

হোক কথা নিজের সাথেই, আঁধারে'তে ডুবিয়ে দু চোখ...



নিচে আপনার মূল্যবান মতামত জানানোর অনুরোধ রইল

Post a Comment

0 Comments